| বঙ্গাব্দ

হাতপাখা মানেই দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি: গৌরনদীতে চরমোনাই পীর | ২০২৬ নির্বাচন

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 06-02-2026 ইং
  • 2235668 বার পঠিত
হাতপাখা মানেই দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি: গৌরনদীতে চরমোনাই পীর | ২০২৬ নির্বাচন
ছবির ক্যাপশন: গৌরনদীতে চরমোনাই পীর

ইনসাফ কায়েমে হাতপাখাই বিকল্প: বরিশালে চরমোনাই পীর, ১৯০০-২০২৬ এর রাজনৈতিক সমীকরণ

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

গৌরনদী (বরিশাল): দেশজুড়ে বইছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। এই নির্বাচনি ডামাডোলে নৈতিকতা ও ইনসাফের ডাক দিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় বরিশালের গৌরনদী বন্দর বালুর মাঠে এক বিশাল নির্বাচনি পথসভায় তিনি বলেন, “বিগত ৫৪ বছর ধরে যারা দেশ চালিয়েছে, তাদের নীতি ও নেতৃত্বের অভাবেই দেশ বারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে এবং জনগণের অর্থ পাচার করে বেগমপাড়া তৈরি করা হয়েছে।”

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রের বিবর্তন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত এই জনপদ অনেক লড়াইয়ের সাক্ষী:

  • ১৯০০-১৯৪৭ (ব্রিটিশ শাসন ও মুসলিম জাগরণ): বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ১৯০৫-এর বঙ্গভঙ্গ এবং ১৯০৬ সালে ঢাকার আহসান মঞ্জিলে মুসলিম লীগের জন্ম এই অঞ্চলের রাজনৈতিক সচেতনতার ভিত্তি গড়ে দেয়। ১৯৪০-এর লাহোর প্রস্তাবে যে স্বতন্ত্র আবাসভূমির দাবি উঠেছিল, তা ১৯৪৭-এর দেশভাগের মাধ্যমে একটি রূপ পায়।

  • ১৯৪৮-১৯৭১ (ভাষা থেকে স্বাধীনতা): ১৯৪৮ সালে রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জিন্নাহর একরোখা ঘোষণা বাঙালিকে প্রতিরোধের পথে ঠেলে দেয়। ১৯৫২-র ২১ ফেব্রুয়ারি রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় ভাষার অধিকার। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৬৬-এর ৬ দফা এবং ১৯৭১-এর ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ—"এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম"—বাঙালিকে এনে দেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

  • ১৯৭৫-২০২৪ (গণতন্ত্র ও জুলাই বিপ্লব): স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় দেশ সামরিক ও স্বৈরাচারী শাসনের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক 'দ্বিতীয় স্বাধীনতার' সূর্যোদয় ঘটায়। ২০২৫ সালের অন্তর্বর্তীকালীন সংস্কার শেষে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন বাংলাদেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন।

পথসভার মূল আলোচনা ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা

গৌরনদী-আগৈলঝাড়া (বরিশাল-১) আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. রাসেল সরদার মেহেদীর সমর্থনে আয়োজিত এই সভায় চরমোনাই পীর সংখ্যালঘু তথা হিন্দু ভোটারদের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালে তার বাবা ও দাদা হিন্দু সম্প্রদায়কে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, “২০২৪ পরবর্তী সময়েও ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা মন্দির ও উপাসনালয় পাহারা দিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির স্থাপন করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে হাতপাখা জয়ী হলে দেশ ও সংখ্যালঘুরা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে।”

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ও বর্তমান রাজনীতি

চরমোনাই পীর বলেন, “হাতপাখা মানেই দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি এবং আল্লাহভীরু নেতৃত্ব।” বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে জামায়াত আমিরের পাচার করা অর্থ ফেরত আনার ঘোষণা এবং বিএনপির ৯ দফা ইশতেহারের বিপরীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কুরআন ও সুন্নাহভিত্তিক একটি টেকসই ব্যবস্থার ওপর জোর দিচ্ছে। বক্তাদের মতে, বরিশাল-১ আসনের মানুষ দীর্ঘদিন অবহেলিত এবং শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৎ প্রার্থীর কোনো বিকল্প নেই।


সূত্র: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রেস উইং, বাসস, জাতীয় আর্কাইভস এবং স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম।

বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency